শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষায়িত কমিশন ও ন্যায়পাল গঠনের তাগিদ

সকল শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য বিশেষায়িত উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে আজও গড়ে ওঠেনি। সব শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা যায়নি। যারা এসেছে, তারাও বইয়ের বোঝা আর পরীক্ষার চাপে বিপর্যস্ত। শিশুশ্রমও উল্লেখযোগ্য হারে কমছে না। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, আশ্রয় এবং নিরাপত্তার অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য কমিশন গঠন ও ন্যায়পালের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। আজ রবিবার (২৪শে মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘শিশু অধিকার: শিশুন্যায়পাল নিয়োগ’ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শসভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) এবং ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে এই পরামর্শসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি, টেকনোলজি এবং পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের পরিচালক কেএএম মোরশেদ। এনএইচআরসি-র চেয়ারপারসন কাজী রেজাউল হকের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন সচিব জুয়েনা আজিজ, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লায়লা জেসমিন, ব্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলাম। অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, সরকার শিশুদের দারিদ্র্য নিরসন, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পয়ঃনিষ্কাষণের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অতিদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন, শিশুশ্রম নিরসন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিশুদের শোষণ বন্ধ এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও বিনোদনের উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত চাহিদা এবং শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির (ইউএনসিআরসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে গৃহীত জাতীয় শিশু নীতি হালনাগাদ করে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নির্মাণে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ প্রণীত হয়। এই নীতিতে একজন ন্যায়পাল নিয়োগের বিধানের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় শিশু নীতির ১০.৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, "শিশুদের জন্য ন্যায়পাল" জাতীয় পর্যায়ে আইনের অধীনে নিযুক্ত করা হবে। জাতিসংঘ সনদের পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন নীতি এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় শিশু অধিকার কল্যাণ কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য শিশুদের জন্য নিয়োজিত ন্যায়পাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এনএইচআরসি-র চেয়ারপারসন কাজী রেজাউল হক বলেন, শিশুদের কল্যাণের জন্য সর্বাগ্রে আমাদের দুটো কাজ করতে হবে-প্রথমত: সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসন, দ্বিতীয়ত: সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় জোরদারকরণ। তাই শিশুকল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আমরা নিয়মিত বৈঠক করছি, অভিজ্ঞতা বিনিময় করছি। আমরা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি এটাও চাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যেন পাবলিক পরীক্ষার বিভীষিকা পেয়ে না বসে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন সচিব জুয়েনা আজিজ বলেন, শিশুন্যায়পাল প্রতিষ্ঠায় আর কালক্ষেপনের সুযোগ নেই। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এবং এনএইচআরসি এই উদ্যোগ নিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও আমরা ভূমিকা রাখব।

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু অধিকার সংক্রান্ত সব ধরনের উদ্যোগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে ব্র্যাক একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একটি শিশু কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই সকল পরামর্শের ভিত্তিতে এনএইচআরসির চেয়ারপারসন কাজী রেজাউল হকের নেতৃত্বে একটি খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে ২০১৬ সালে তা সরকারের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। এটা সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ, একইসঙ্গে একটি স্বাধীন শিশু অধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার সরকারি অঙ্গীকারও বটে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা