ব্র্যাকের আয়োজনে ‘অগ্নিযোদ্ধা সম্মাননা’

একের পর এক অগ্নিকাণ্ড। ঢাকার কড়াইল বস্তি, চকবাজার, মিরপুরে আগুন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আগুন লাগে বনানীর এফ আর টাওয়ারে। দুদিনের মাথায় গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে। বিপুল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি। সবচেয়ে করুণ - আগুনে আটকা পড়ে বহু মানুষের অসহায়ত্ব। প্রতিটি ঘটনাতেই যত দ্রুত সম্ভব সাড়া দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনোবা ধসে পড়া স্থাপনার নিচ থেকে, কখনো বহুতল ভবনে আগুনের ভেতর থেকে মানুষকে বের করে আনেন। পেশার মর্যাদা রক্ষার পাশপাশি মানবতার টানে জীবনের ঝুঁকি নেন তাঁরা। পরিবার-পরিজনের দুশ্চিন্তা মনে রেখেও, তাঁরা প্রাণপন চেষ্টা করে যান যেন অন্যরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। অসহায় মানুষের প্রাণ বাঁচানোর আত্মতৃপ্তিই তাঁদের বড় পাওয়া।

এই অসীম সাহসী অগ্নিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতে আজ বৃহস্পতিবার (১১ই এপ্রিল) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আয়োজন করে এক সম্মাননা অনুষ্ঠানের। কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনের মিলনায়তনে এই ‘অগ্নিযোদ্ধাদের সম্মাননা’ অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়। ব্র্যাকের উর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ-এর সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন এবং পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ, পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্ণেল এস এম জুলফিকার রহমান। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, ই-ডট-কো বাংলাদেশ, আইপিডিসি ফিন্যান্স, ব্র্যাক নেট, গার্ডিয়ান লাইফ ইনসিউরেন্স, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস এবং একাত্তর টিভি।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেয়া হয় সম্প্রতি এফ আর টাওয়ারে আগুনের সময় উদ্ধারকাজ চলাকালীন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণ হারানো ফায়ারম্যান সোহেল রানার পরিবারকে। আরো ৩ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রাস্টের তহবিলে। এছাড়াও, বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়া মানুষেরা ফুলের তোড়া ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন ১০ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মীর হাতে। এই ১০ জন হচ্ছেন ফায়ারম্যান সোহাগচন্দ্র কর্মকার, বিষ্ণুপদ মিস্ত্রী, জাকির হোসেন, কাজী সোহাগ, শহীদুল ইসলাম, জুয়েল মাহমুদ, মফিজুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, নাজির হোসেন, মোক্তার হোসেন।

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন অসহায় মৃত্যু আর দেখতে চাই না। যারা উঁচু উঁচু ভবন করেছেন, আগুন থেকে বাঁচার জন্য তাদের সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। নতুবা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমন উদ্যোগ নেওয়ায় ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের সবাইকে আরও উজ্জীবিত করে দিল। তবে দেশবাসীকে অনুরোধ করব, অযথা ভিড় করে আমাদের কাজে বিঘ্ন ঘটাবেন না। সবার আগে ভূমিকা রাখতে হবে স্থানীয় জনগণের। আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারব।’

আলোচনায় কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - দেরিতে খবর পাওয়া, যানজট, সংকীর্ণ রাস্তা, উৎসুক জনতার অহেতুক ভিড়, আশপাশে পানির ব্যবস্থা না থাকা, বহুতল ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম, কর্মীদের প্রশিক্ষণ না থাকা, আলাদা বহির্গমনের পথ না থাকা।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা