ব্র্যাক ও কেএফডব্লিউ-র যৌথ উদ্যোগ: ১২ মিলিয়ন ইউরো নিয়ে ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড গঠন

জার্মান সরকারের পক্ষে জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে “ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ড”। প্রাথমিকভাবে ১১ দশমিক ৭৩৫ মিলিয়ন ইউরো তহবিল নিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা হয় আজ বুধবার (১৫ই জানুয়ারি) সন্ধ্যায়।

বাংলাদেশে জলবায়ু সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে কিংবা উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীগুলোর দুর্যোগ মোকাবেলার সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তার জন্য এই তহবিলটি গঠন করা হয়েছে। তহবিলটির কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে শহরাঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনসাধারণ।

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্ট্জ্, কেএফডব্লিউ-র কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বাণ কুণ্ডুসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।

উদ্যোক্তারা জানান, গত বছরের নভেম্বরে এই তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রথমে খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় জলবায়ু-ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবেলায় সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই তহবিলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শহর এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে। তহবিলটির নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে ব্র্যাকও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাাহী পরিচালক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বব্যাপী একটি সংকটপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আগামী পাঁচ বছর ব্র্যাকের কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান এলাকা হবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা। এই তহবিল বাংলাদেশের জন্য একটি চমৎকার উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে টেকসই কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য উপযুক্ত পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কার্যক্রমের উত্তরোত্তর বিস্তার ঘটবে।”

কেএফডব্লিউ-র কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বাণ কুণ্ডু বলেন, “ব্র্যাকের সঙ্গে এরকম একটি তহবিল গঠন করতে পেরে আমরা গৌরব বোধ করছি। এর মাধ্যমে শহর এলাকায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্ট্জ বলেন, “স্বল্পোন্নত ও উদীয়মান দেশগুলোর ইতিবাচক পরিবর্তনে আর্থিক সহায়তা চালিয়ে যেতে জার্মানি অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

কমপ্রিহেনসিভ ডিজ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (সিডিএমপি-২) ২০১৪-এর তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুহারা হবে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে যা গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে দরিদ্র জনগণের জন্য জীবিকার সঙ্কট তৈরি করবে। এতে আরো বলা হয়, কৃষকদের অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ফলে নগরে বস্তির সংখ্যা ও বস্তিবাসী জনসংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে নগরাঞ্চলে জীবিকার সুযোগপ্রাপ্তি, আবাসন, পানি সরবরাহ ও পয়ঃ ব্যবস্থা ও নিষ্কাশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অন্যান্য অবকাঠামোসহ মৌলিক সেবাগুলোর বিপুল চাহিদা সৃষ্টি হবে ও সঙ্কট বাড়বে। দেশের নগরাঞ্চলগুলোর অন্যতম কেন্দ্র খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জ।

শহরের বস্তিবাসীদের জীবন-জীবিকা মৌলিক সেবা ও সুযোগসুবিধার অভাবে ক্রমশ আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং বন্যা, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, সংক্রামক রোগের বিস্তারসহ বিভিন্ন দুর্যোগের দ্বারা আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

আমাদের কর্মস্থল

                

ব্র্যাক কুইজ

কোনটি দারিদ্র্য দূরীকরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী?

বিকল্প যোগাযোগ পন্থা